Economy

পারিবারিক ঋণের হার বেড়ে দাঁড়ালো ৪২ শতাংশ, কিছু মাসের মধ্যে হতে পারে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা

ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য অনেক সময় অর্থের দরকার পড়ে। কোন বন্ধু বা নিকট আত্মীয়র কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা ঋণ নেওয়া সম্ভবপর নয় বলে সবথেকে ভালো ঋণ নেওয়ার প্রতিষ্ঠান হল ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংকে পার্সোনাল লোন দেওয়া হয়ে থাকে খুবই অল্প সুদে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ২০২৫ সালে অন্যান্য বছরের তুলনায় পারিবারিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই।

জানা যাচ্ছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পারিবারিক ঋণের হার ছিল মোট ঋণের ৩৮ শতাংশ। সেটা ২০২৫ সালে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশ। জানা যাচ্ছে, আগামী মার্চের মধ্যে এই পরিমাণ হতে পারে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা।
অর্থাৎ বিগত পাঁচ বছর ধরে যে পরিমাণ ৩৮ শতাংশ দাঁড়িয়ে ছিল, ২০২৫ সালের সেই পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, ব্যক্তিদের মধ্যে পারিবারিক ঋণ গ্রহণে প্রবণতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন ব্যক্তি ঘর বাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি মেরামত, গাড়ি কেনা পুরনো ঋণ মেটাতেও নতুন ঋণ নিয়ে থাকেন। অনেক ব্যক্তিদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা না থাকার জন্য সুদের পরিমাণ বাড়ছে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্টে ঋণ বৃদ্ধির ধাপ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পারিবারিক ঋণের পরিমাণ 25 লক্ষ কোটি টাকা ছুতে চলেছে। এই পরিমাণটাই ২০২৪ সালে ছিল মাত্র 18 লক্ষ কোটি টাকা।
অন্যদিকে ২০১৫ সালে এইদিনের পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ১৮ লক্ষ কোটি টাকায়। আরো দু বছরের মধ্যে এটি পৌঁছে যাবে ২৫ লক্ষ কোটি টাকায়।
রিজার্ভ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, পারিবারিক লোনের ২২ শতাংশই রয়েছে পার্সোনাল লোনের অংশ।

তবে একটা দিকে লক্ষ্য করা গিয়েছে, বিগত বছরগুলোতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ছিল ঘরবাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ বেশিরভাগ ব্যক্তিদের লোন নেওয়ার কারণ ছিল এগুলো। কিন্তু সম্প্রতি মোট ঋণের ২৮ শতাংশ নেওয়া হচ্ছে গৃহঋণ। অন্য দিকে ৫৩ শতাংশ ঋণ নেওয়া হচ্ছে পন্য ক্রয়ের জন্য। এছাড়া ১৬ শতাংশ ঋণ নেওয়া হচ্ছে কৃষি ও ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে।
অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে বর্তমানে ব্যক্তিদের পণ্য ক্রয় এর প্রবণতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্যক্রয়ে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্যই ঋণ নেওয়ার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এইজন্য গৃহঋণের থেকেও পণ্য ক্রয় ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে। তবে বর্তমানে ব্যক্তিদের মধ্যে সেভিংস এর ব্যাপারে নজরের ব্যাপারটা বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ পারিবারিক সঞ্চয় পরিমাণ আগের থেকে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যক্তিদের মধ্যে। কিন্তু সেই সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে পণ্য ক্রয় না করে লোন নিয়ে পন্য ক্রয় করতে বেশি পছন্দ করছেন গ্রাহকরা।
এই ব্যাপারটি পর্যালোচনা করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রিজার্ভ ব্যাংকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে মনে হয়েছে, আর্থিক নিরাপত্তা জনিত ব্যাপার নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সংশয় কাজ করছে। যে কোন সময় জীবিকা বা পেশা বা আয়ের উৎস যদি বন্ধ হয়ে যায় বা উত্থান পতন ঘটে তার জন্যই আগের থেকে সঞ্চয়ের দিকে ফোকাস করছেন তারা। যাতে কোন প্রতিকূল অবস্থায় সঞ্চয় থেকে আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া যায়। জমানো টাকা খরচ করে পণ্য ক্রয় করার পক্ষপাতী বর্তমানে গ্রাহকরা নয়। তাই তারা কোনো জিনিস কেনার ক্ষেত্রে লোনের ওপর নির্ভর করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। অথচ 2018 সালের আগে গ্রাহকদের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনে উদ্ধিত অর্থ ইনভেস্ট করার ইচ্ছে বা প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের দিকে এসে ফ্ল্যাট কেনার প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে কমছে। এইজন্য অনেক নতুন তৈরি হওয়া ফ্ল্যাট ফাঁকাই পড়ে থাকছে।

এক কথায় বলা যায়, বর্তমানে এসে গ্রাহকদের মধ্যে পার্সোনাল লোন নেওয়ার প্রবণতার বৃদ্ধি পেয়েছে তবে সেটা শুধুমাত্র পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সঞ্চয়ের দিকে গ্রাহকরা অনেকটাই নজর দিচ্ছেন।

karmasathi.in@gmail.com

karmasathi.in প্রতিদিন আপনাদের জন্য নিয়ে আসে সরকারি চাকরি, সরকারি যোজনা, স্থানীয় খবর ও প্রশিক্ষণ আপডেট। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সহজ ভাষায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে, যাতে আপনারা সব গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে পান। karmasathi.in-এর সঙ্গে থাকুন, সবসময় থাকুন আপডেট ও এগিয়ে!
Back to top button