NSP স্কলারশিপের সুবিধা, আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আবেদন পদ্ধতি ও আবেদনের শেষ তারিখ জেনে নিন।
একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে শিক্ষিত হতে হয় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির শিখরে থাকার জন্য। কিন্তু অনেক সময় এই শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে আসতে হয় অর্থনৈতিক কারণের জন্য। এর জন্য সরকার প্রদত্ত একটি স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেশের মেধাবী ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেবে। এবং ভবিষ্যদের পথকে সুগম করে দেবে। এ স্কলারশিপটির নাম NSP স্কলারশিপ। দেখে নেওয়া যাক এই স্কলারশিপের জন্য আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও বৃত্তির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
NSP স্কলারশিপ সম্পন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে এবং ডিজিটাল মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ করে থাকে এর ফলে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা স্বচ্ছ নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। স্কুল কলেজ বা পিসাগত কোর্সের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে হলে সে শিক্ষার্থীকে NSP স্কলারশিপে আবেদন করতে হবে। যাতে সকল সামাজিক বিভাগের এবং সকল ক্যাটাগরির পড়ুয়ারা একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। তার জন্যই ইজ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল রাখা হয়েছে।
NSP স্কলারশিপ এর শ্রেণীবিভাগ : কয়েকটি বিভাগে শ্রেণীবিভক্ত করা হয়েছে এই স্কলারশিপ কে।
প্রিম্যাট্রিক বিভাগ : এখানে মাধ্যমিকের নিচে অর্ধানরত শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপ সাজানো হয়েছে।
মেট্রিক পরবর্তী : এটি মাধ্যমিকের পরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক, গ্র্যাজুয়েট, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পড়ুয়ারা আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিবন্ধীদের জন্য বৃত্তি : কলেজ স্নাতকোত্তর স্তরে প্রতিবন্ধী পড়ুয়ারা যদি অধ্যায় ন করে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারেন।
সংখ্যালঘু ও বিশেষ অঞ্চলের জন্য : কিছু বিশেষ সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী এবং বিশেষ অঞ্চল যেমন উত্তর-পূর্ব অঞ্চল অন্যান্য বিশেষ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে।
আরোও পড়ুন: ঐক্যশ্রী স্কলারশিপে আবেদনের শেষ তারিখ কবে এবং আবেদন যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি জানুন!
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা :
১) অবশ্যই ভারতীয় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে।
২) পারিবারিক আয় বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হতে হবে যেমন ম্যাট্রিক পূর্ববর্তী বৃত্তি পাওয়ার জন্য পারিবারিক ১ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে হবে এবং পোস্ট ম্যাট্রিক হলে পারিবারিক ২ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে হবে।
৩) বিশেষ করে এই স্কলারশিপ SC/ST এবং সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য লক্ষ্য করেই তৈরি করা হয়েছে। একাডেমিক পারফরমেন্স বিভাগ অনুযায়ী ভিন্ন রয়েছে। স্কিমের নিয়ম অনুসারে শতাংশ বা গ্রেড পেয়ে থাকতে হবে।
আবেদন পদ্ধতি : আবেদনকারী কে প্রথমে NSP স্কলারশিপ এর অফিসের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি প্রোফাইল করতে হবে। নিজের নাম বয়স জায়গার নাম এগুলো দিয়ে বৈধ ইমেইল আইডি সহযোগী একটি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে তারপরে ইউজার আইডি দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর আপনি যে বিভাগের জন্য আবেদন করতে চাইছেন সেটি বিকল্প খুঁজে নিয়ে অ্যাপ্লিকেশন করুন। আবেদনপত্রে সমস্ত কিছু সঠিকভাবে লিখুন। ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকের ডিটেলস মোবাইল নাম্বার এগুলো ভালো করে দেখে নিয়ে তারপর উল্লেখিত ডকুমেন্টস স্ক্যান করে আপলোড করুন। ভালো করে একবার যাচাই করে নিয়ে সাবমিট করুন এবং সাবমিট করার পর আবেদন পত্রের একটি প্রিন্ট আউট রিসিভ কপি হিসেবে নিজের কাছে রাখুন।
এরপর আপনার আবেদনপত্র যাচাই করার জন্য আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে এবং তারা এটি ভালো করে যাচাই করবেন এবং পর্যালোচনা করবেন আপনি এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য কিনা। চূড়ান্ত যাচাইয়ের পর আপনার প্রদত্ত বৃত্তির পরিমাণ ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
NSP জাতীয় স্তরের একটি স্কলারশিপ। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীরা অনেক দূর পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া মাধ্যমিক পূর্ববর্তী এবং উচ্চ মাধ্যমিক,গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্তরের ছাত্রছাত্রীরা যারা আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়, তাদের জন্য এই স্কলারশিপ শিক্ষিত করে তোলে যা আগামী জীবনে একটি ছাত্র বা ছাত্রীর ভবিষ্যৎ উজ্জলের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে।
