বিধানসভা নির্বাচনের আগেই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি! কবে থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারে বর্ধিত টাকা ঢুকবে?
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য সরকারের বাজেট ঘোষণায় এইবার লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের খুশির ভান্ডার উপচে পড়ার মতন খবর দিয়েছেন স্বয়ং রাজ্য সরকার অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০০ টাকা করে বেশি দেওয়া হবে লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের। অনেকদিন ধরেই যদিও কানাঘুষ শোনা যাচ্ছিল লক্ষীর ভান্ডারের অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হবে এবং শেষমেষ বাজেট ঘোষণায় সময় লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে এই ঘোষণা লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের মনকে একদম খুশি করে দিয়েছে বলা যায়। কবে থেকে এই বর্ধিত টাকা পাবেন সেই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
কত টাকা বৃদ্ধি করা হলো : বাজেটে রাজ্য অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন লক্ষীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ জেনারেল ক্যাটাগরি রা এতদিন পেতেন ১০০০ টাকা করে। ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার পরে এবার থেকে ব্যাংক একাউন্টে ঢুকবে মাসিক ১৫০০ টাকা করে। অন্যদিকে তপশিলি জাতিরা উপজাতিরা পেতেন ১২০০ টাকা করে সেটা ৫০০ টাকা বেড়ে যাওয়ার ফলে এবার থেকে পাবেন ১৭০০ টাকা করে।
কবে থেকে বৃদ্ধি পাবে : ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত টাকা হিসাবে ১৫০০ টাকা এবং ১৭০০ টাকা ঢুকবে। অর্থাৎ এই মাসেই এই টাকা পেয়ে যাবেন লক্ষীর ভান্ডার প্রাপকরা।
আরোও পড়ুন: রাজ্য সরকারের তরফে শুরু করা হলো নতুন একটি প্রকল্প, যুব সাথী প্রকল্পে মাসিক ১৫০০ টাকা পাওয়ার সুযোগ। আবেদন পদ্ধতি ও অন্যান্য তথ্য জানুন!
যদিও এই বাজেটে অনুদানের পরিমাণে বৃদ্ধি করার কারণ হিসেবে বিরোধীদল মনে করছেন বিধানসভা নির্বাচনের জয়ী হওয়ার অন্যতম মাস্টার্স স্ট্রোক হিসাবে কাজে লাগিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে 2026 এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখের নিশানা করার জন্যই বাজেটে লক্ষীর ভান্ডার বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন রাজ্য সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সরকার হিসেবে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে লক্ষীর ভান্ডার নামক এই প্রকল্প চালু করেন। যখন এ প্রথম প্রকল্প চালু হয় তখন অনুদানের পরিমাণ ছিল ৫০০ টাকা। এরপরে ২৪শে লোকসভা ভোটের আগে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৬ এর জানুয়ারি পর্যন্ত হাজার টাকা করেই পেতেন এই প্রকল্পের উপভোক্তারা। তবে এইবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফেব্রুয়ারি মার্চ থেকে ফের আরেকবার বৃদ্ধি করা হলো এই প্রকল্পের অনুদানের পরিমাণ। যদিও সবাই এটাকে বিধানসভার নির্বাচনের জয়লাভের অন্যতম নিশানা হিসেবে মনে করছেন তবে এই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ায় লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তারা অর্থাৎ রাজ্যের মহিলারা আরো বেশি আর্থিক স্বনির্ভর হতে পারবে এবং তারা এই বর্ধিত অর্থের মাধ্যমে আরো কিছুটা আর্থিক সুবিধা পাবে। এমনিতেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জনপ্রিয়তা সারা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আর এই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি যেন সেই জনপ্রিয় তাকে আরো ব্যাপকতা এনে দিয়েছে।



