প্রধানমন্ত্রী দেশের জনসাধারণের জন্য যেমন বিভিন্ন রকম প্রকল্পের সূচনা করেছেন ঠিক তেমনি দেশের কৃষকদের জন্য যে জনপ্রিয় প্রকল্প শুরু করেছেন তার নাম প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা। এই যোজনার মাধ্যমে দেশের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য পাচ্ছেন যার মাধ্যমে তাদের কৃষিকাজ করা অনেকটাই সুবিধাজনক হয়ে গিয়েছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকটাই হয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার অনুদানের পরিমাণ অনেকটাই বাড়ানো হবে। কবে থেকে বৃদ্ধি পেতে চলেছে অনুদানের পরিমাণ? কারা কারা এই বর্ধিত অনুদান পাবেন? ২৩ তম কিস্তির টাকা কবে নাগাদ ঢুকতে চলেছে এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে চলেছি আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশের কৃষকদের জন্য দুর্দান্ত একটি ঘোষণা করেছেন, এই ঘোষণা কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে। কৃষকদের অনুদানের পরিমাণ ৬০০০ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ৯০০০ টাকায় হতে চলেছে। অন্যদিকে ২৩ তম কিস্তির টাকা কবে নাগাদ ঢুকতে চলেছে তাও ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকদিন ধরেই কৃষকরা অপেক্ষা করছিলেন, কবে ২৩ তম কিস্তির টাকা ঢুকবে? সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে অবশেষে। পি এম কিষান সম্মান নিধি যোজনার অনুদানের ২০০০ টাকা প্রত্যেকবারের মতন DBT ট্রান্সফারের মাধ্যমে ঢুকতে চলেছে উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে।
সামনেই আসতে চলেছে বিধান সভা নির্বাচন। আর নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলের থেকে অনেকরকম প্রতিশ্রুতি মূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তেমনি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকেও দেশের কৃষকদের জন্য প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে যে, কৃষকদের অনুদানের পরিমাণ ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এর ফলে কৃষকদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো অনেকটা উন্নত হবে এবং কৃষিকাজ করার জন্য আরও বেশি উন্নত ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা। বিধানসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই এইরকম প্রতিশ্রুতিমূলক ঘোষণা অনেকটাই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের কৃষকদের।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরাহা দেওয়ার জন্য এবং কৃষিকাজের উন্নতি ঘটানোর জন্যই কৃষকদের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি নামক একটি প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। এই প্রকল্পের অধীনে বছরের মোট ৬০০০ টাকা ডিবিটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়। মোট ৬০০০ টাকা তিনটি কিস্তিতে পাঠানো হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক কিস্তিতে ২ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়। প্রথম কিস্তি দেওয়া হয় জুন জুলাই মাস নাগাদ, দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হয় আগস্ট-নভেম্বর মাস নাগাদ এবং তৃতীয় কিস্তি দেওয়া হয় ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে দেওয়া হয়। অর্থাৎ এইবার 23 তম কিস্তির টাকা পেতে চলেছে কৃষকরা। কিস্তির সময় অনুযায়ী জুন জুলাই মাস নাগাদই ২৩ তম কিস্তির টাকা ঢুকবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩.৩২ কোটি দেশের কৃষককে ১৮.৬৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।
ব্যাংক একাউন্টে টাকা না আসার কারণ?
অনেক কৃষককে অভিযোগ করতে দেখা যায় তাদের নাম প্রকল্পে থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকছে না। তবে এর কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে সেগুলি হল, কে ওয়াইসি না থাকা, আধার কার্ডের সাথে ব্যাংক একাউন্টে লিংক না থাকা, নামের স্পেলিং ভুল বা একাউন্টে নাম্বারে ভুল থাকলে ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকবে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয় প্রতিটি ডকুমেন্ট ভালো করে চেক করে নেওয়ার জন্য। আপনার যদি ব্যাংক একাউন্টে টাকা না আসে তাহলে আপনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আধার কার্ডের মাধ্যমে ওটিপি ভেরিফাই করতে পারেন বা নিকটবর্তী কৃষি দপ্তরে গিয়ে ই কেওয়াইসি জমা দিতে পারেন।
২৩ তম কিস্তির টাকা কবে নাগাদ পাবেন?
২৩ তম কিস্তির টাকা ২০২৬ এর জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে পেয়ে যাবেন। তবে তার আগে আপনার সমস্ত সমস্ত ডকুমেন্ট ঠিকঠাক রয়েছে কিনা যাচাই করে নিন।
স্ট্যাটাস চেক করবেন কিভাবে?
আপনার টাকা এসেছে কিনা এই স্ট্যাটাস চেক করার সবথেকে সহজ পদ্ধতি হলো প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে farmer corner অপশন এসে বেনিফিশিয়ারি স্ট্যাটাস অপশন এসে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর বা ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার ইনপুট করে স্ট্যাটাস চেক করুন।
দেশের যে সমস্ত কৃষকদের পিএম কিষান সম্মান নিধি যোজনার প্রকল্পে নাম রয়েছে তারা নিশ্চিন্ত থাকুন ২৩ তম কিস্তির টাকা জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে আপনাদের ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে যাবে। অন্যদিকে, এই প্রকল্পের টাকা ৯০০০ করা হবে কবে থেকে তা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি তবে অমিত শাহ একটি বক্তব্য রেখেছেন যেখানে বলা হয়েছে বিজেপি জিতলে অবশ্যই এই প্রকল্পের অনুদান আরও ৩ হাজার টাকা বাড়ি ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে তা এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। সবটাই নির্ভর করছে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের উপর।