BLOG

একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় সেমিস্টারের জন্য ছুটি গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর, পরীক্ষার জন্য কোনগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন?

যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছো, তাদের জন্য দ্বিতীয় সেমিস্টারে থাকা ছুটি গল্প নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন। ছুটি গল্প থেকে কোন কোন প্রশ্নগুলো ইম্পরট্যান্ট? সেই প্রশ্নগুলো উত্তর সমেত আজকে আলোচনা করা হলো এই প্রতিবেদনে। আশা করা যায় এই প্রশ্নগুলো ভালো করে পড়লে পরীক্ষায় কমন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে সম্পূর্ণ প্রশ্ন উত্তর জানতে হলে প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলো।

বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলতে প্রথমে মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন গল্পের মধ্যে ছুটি গল্প একটি জনপ্রিয় গল্প। এই গল্পের প্রধান চরিত্র ফটিক যাকে ঘিরেই এই গল্প। এই গল্পে ফটিকের জীবন কাহিনী, এক কিশোরের জীবনমুখী অভিজ্ঞতার গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।

বড় প্রশ্ন হিসাবে এখানে আসতেই পারে যে প্রশ্নগুলো:

১) ছুটি গল্পের ফটিকের চরিত্র বিশ্লেষণ করো?

শিশুসুলভ মন: প্রথমেই ফটিক সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় সে একদম গ্রামের সবুজ সরল নিষ্পাপ কিশোর। যে গ্রামের অন্যান্য কিশোর-কিশোরীদের সাথে খেলে বেড়ায়। প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়ায়। তার মধ্যে শিশুসুলভ মন থাকলেও অদ্ভুত এক দৃঢ়তা লক্ষ্য করা যায়।

দৃঢ়তা: সে যখন গ্রামের অন্যান্য কিশোরদের সাথে খেলা করত, তাকে সবসময় নেতৃত্ব দিতে দেখা যেতো। এই গল্পেও দেখা যায় এক শাল গাছের গুড়ি গড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার খেলাতেও সেই বিভিন্ন ইন্সট্রাকশন দিচ্ছে তার বন্ধুদের এবং তার বন্ধুরাও সহজেই তার এই ইনস্ট্রাকশন মেনে নিতে।

সরলতা: ফটিকের মধ্যে অদ্ভুত এক সরলতা ছিল। সে সবার সাথে খুব সহজে মিশে যেত। একটুতেই শেষ খুশি হয়ে যেত আবার অনেক সময় কিছু কথায় খুব কষ্ট পেতে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে কষ্ট ভুলে গিয়ে আবার আনন্দে মেতে উঠতো। এই গল্পে দেখা যায় শাল গাছের গুড়ি নিয়ে যখন তারা খেলছিল তখন তার বন্ধু মাখন লাল শাল গাছের গুড়ির মধ্যে উঠে বসে থাকতে। তখন সে তার ভাইকে বারবার নামতে যখন সোনা আমি না তখন তার ভাইকে শুদ্ধ শাল গাছের গুড়ি গুড়ি নিয়ে এখানে তার স্বভাবে অদ্ভুত সরলতা লক্ষ্য করা যায়।

প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব: ফটিক চরিত্রটির মধ্যে অদ্ভুত এক প্রকৃতির প্রেম দেখা যায়। তাকে গাছের ছায়ায় বসে থাকতে দেখা গিয়েছে আবার নদীতে সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছে। সে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাইতো।

অসীম সহ্য ক্ষমতা: ফটিকের খুব ছোট বয়সে বাবা মারা গিয়েছিল তাই সে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে ছোটবেলা থেকে জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। মামীর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রহার শোনার পরেও সে চেষ্টা করত মামির সমস্ত কথা মেনে চলার এবং মামীর যা কাজ সব কাজ সম্পন্ন করলেও মামীর মন সে জয় করতে পারেনি।
গ্রামের সহজ সরল পরিবেশ ও জীবন থেকে হঠাৎ করে শহরে যখন তার মামা তাকে নিয়ে যায় তখন সে খুব একলা হয়ে যায়। কোথাও যেন গ্রামের সহজ সরল পরিবেশের অভাব সে বোধ করে। সে যখন তার মামার কাছে তার মার কাছে ফিরে যাওয়ার আবদার করে তখন তার মামা তাকে জানায় কিছুদিন পরে তাকে দিয়ে আসবে। কিন্তু তারপরেই গল্পে দেখা যায় ফটিক নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এবং গল্পের শেষে তার মৃত্যু হয় এমনটাই দেখানো হয়েছে।

২) ফটিক মামার বাড়িতে যাওয়ার পর তার এমন দুরবস্থা হল কেন?

যেহেতু ফটিক গ্রামের সাথে ছোটবেলা থেকে পরিচিত। গ্রামের সহজ সরল জীবন যাপনের সাথে তার ছোটবেলা থেকেই একটা একাত্মবোধ গড়ে উঠেছিল। গ্রামের প্রকৃতি, ছেলেবেলার বন্ধুত্ব সমস্ত কিছুকে ফেলে রেখে তার মামা যখন তাকে শহরে নিয়ে যায় তখন যেন তার শিকড় থেকে দেখে উপড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। শহরের যানজটযুক্ত ব্যস্ততম জায়গায় সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। গ্রাম আর শহরের মধ্যে যে সরলতার ফারাক রয়েছে সে বুঝতে পারে। কোথাও যেন তার মধ্যে একটা মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে থাকে। অন্যদিকে তার মামীর যেহেতু তিনটি সন্তান ছিল তাই ফটিক আসার পরে তার মানে কিছুটা বিরক্ত হয়। অনেক কাজ ফটিককে দিয়ে করিয়ে নেয় তার মামী কিন্তু তবুও ফটিক বকা খায়। শহরের স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ায় যখন ফটিক বই হারিয়ে ফেলে এবং মামীর কাছে এসে পুনরায় বই কেনার আবদার করে তখন মামি তাকে অনেক বকা দেয়। এইসময় সে তার মাকে খুব মিস করতে থাকে। যদি অনেকবার বলাতে তার মামা তাকে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না। এক সময় দেখা যায় সে এই মনের দ্বন্দ্ব আর একাকীত্ব সামলাতে না পেরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরে যখন তাকে ফেরত পাওয়া হয় তখন সে জ্বরের কারণে অনেকটা অসুস্থ থাকে। একসময় সে প্রলাপ বকতে থাকে, সে বলতে থাকে “মা আমার ছুটি হয়েছে, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি”।

৩) ছুটি গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা কর?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি শ্রেষ্ঠ ছোট গল্প হলো ছুটি। ছুটি গল্পের মধ্য দিয়ে এক কিশোরের জীবনমুখী অভিজ্ঞতা, মানসিক দ্বন্দ্ব, কৈশোরের যন্ত্রণা এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের ছুটির এক গল্প বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

এই গল্পে দেখা যায় গ্রামের এক শহর কিশোর হল ফটিক। ছোট বয়সেই সে তার বাবাকে হারায়। ছোট বয়সে বাবাকে হারিয়ে সে অনেকটাই মনে কষ্ট ছিল। অসম্ভব প্রকৃতিপ্রেমিক ছিল সে। প্রকৃতির সাথে খেলা করতে একাত্ম হতে তাকে প্রায় দেখা যেত। কিন্তু তার এই সহজ সরল জীবনে ঘন অন্ধকার বয়ে আসে যখন তার মামা তাকে শহরে নিয়ে যায়। শহরের ব্যস্ততম পরিবেশে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না। তার সেখানে দমবন্ধ লাগে। তার একা একা সময় কাটেনা যার ঘরে একাকীত্ব ঘিরে ধরে। তার মধ্যে মামীর উঠতে-বসতে কটাক্ষ তাকে আরো মানসিক কষ্ট দিতে থাকে। মামীর বলা অনুযায়ী কাজ করে দিলেও মামীর মন জয় করতে সে পারেনা। শহরের এই বদ্ধ জায়গায় সে হাঁপিয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। যখন থেকে ফিরিয়ে আনা হয় তখন তার শরীরে বেশ জ্বর। সে তখন বারবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে এবং মায়ের কাছে যেতে চায়। কিন্তু তার বলা শেষ কথা না আমি ছুটি চাই। বাড়ি যেতে চাই। এই কথার মধ্য দিয়ে এক গভীর আর্তনাদ বুঝিয়েছেন কবি। ছুটি শব্দের অর্থ আমরা বুঝি কোন কিছু থেকে একটু হাফ ছেড়ে বাঁচা। একঘেয়েমি জীবন থেকে একটু মুক্তির আস্বাদ। কিন্তু এইখানে কবি ফটিকের বলার শেষ কথার মাধ্যমে বুঝিয়েছেন জীবন থেকে ছুটির কথা। অর্থাৎ শহরের এই একঘেয়েমি একাকীত্ব থেকে সে বরাবরের জন্য জীবন থেকে ছুটি নিয়ে নিল। এইখানে একটি কিশোরের জীবন অভিজ্ঞতার মর্মাহত কাহিনী তুলে ধরলেও কবি এখানে প্রতিটি ব্যক্তি জীবন মৃত্যু মানব জীবনের এক বিষাদময় সত্যিকে তুলে ধরেছেন।

৪) ছুটি গল্পে বিশ্বম্ভর বাবুর চরিত্র বিশ্লেষণ করো?

ছুটি গল্পে বিশ্বম্বর বাবু ছিলেন ফটিকের মামা। তার মধ্যে একটা অসম্ভব দয়ালু মনোভাব আমরা গল্পে লক্ষ্য করি। তিনি কাজ থেকে ফিরে প্রথমে তার বোনের সাথে দেখা করেন এখানে বোনের সাথে দাদার একটা আত্মার বা ভালোবাসার সম্পর্ক বোঝায়। বোনের বাড়িতে এসে যখন তার ভাগনা অর্থাৎ ফটিকের কষ্ট দেখেন তখন তার মনের মধ্যে একটা দয়া বা ভালবাসা জন্মায়। সে কোন কিছু চিন্তা না করে ফটিককে নিজের কাছে এনে রাখতে চায় এবং তার সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করতে চায়। এখানেই তার চরিত্রে একটা অসম্ভব বিবেক ও মানবিকতা পূর্ণ মানুষের চরিত্র আমরা লক্ষ্য করি। এমনকি ফটিককে শহরে একটি স্কুলেও ভর্তি করে দিতে দেখা যায়। এখানে তিনি তার সন্তানের মতন ফটিককে মানুষ করতে চেয়েছিলেন যেখানে বোঝা যায় তিনি তার সন্তান সমূহ হিসাবে ফটিকে মেনে নিয়েছিলেন। তিনি ফটিককে বই এমনকি অন্যান্য খেলনা কিনে দিতেন। ফটিক যখন নিরুদ্দেশ হয়ে যায় তখন তিনি পুলিশ দিয়ে খোঁজ লাগিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে না দিয়ে নিজের কাছেই নিয়ে আসেন এবং ডাক্তার দেখিয়ে তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে এখানে বিশ্বম্ভর বাবু একজন দয়াশীল, ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন উদার চরিত্র হিসেবে আমাদের কাছে দেখা যায়।

৫) “মা এখন আমার ছুটি হয়েছে, আমি এখন বাড়ি যাচ্ছি”! কোন প্রসঙ্গে এমন উক্তির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ছুটি গল্পের মধ্য দিয়ে ফটিক নামক এক কিশোরের জীবনী এবং মৃত্যুর সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছেন। ফটিক যখন তার জ্বরের ঘোরে তার মাকে ডাকে এবং বলে “মা এখন আমার ছুটি হয়েছে এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি”- এই কথার মধ্য দিয়ে সে জীবন থেকে মুক্তির কথাই বোঝাতে চেয়েছে। তার সাথে ছুটি হবার সাথে তার বাড়ি যাওয়ার এই উক্তি থেকে বোঝা যায় তার গ্রামের বাড়ির প্রতি যে আকুল টান বা অনুভূতি সেই অনুভূতিকে আবার কাছ থেকে পাওয়ার জন্য সে মৃত্যুকে বাড়ি ফেরার পথ হিসাবে এবং ছুটি হিসাবে দেখেছে।

এই উক্তির তাৎপর্য হলো শহরের ব্যস্ততম ইট কাঠ পাথরের যান্ত্রিক জীবন থেকে ছুটি নিয়ে এসে মৃত্যুকেই তার বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি হিসাবে এখানে কবি তুলে ধরেছেন। সবার জীবনে মৃত্যু চিরন্তন কিন্তু এখানে ফটিকের মৃত্যু যেন তার জীবন সংগ্রামের এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে মনের অনুভূতির দন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। তার শৈশবের গ্রামের বাড়ি, প্রকৃতির প্রতি যে অদম্য টান সেই টানকে সে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ছুঁতে চাইছে। মৃত্যু যদিও চিরন্তন সত্য এবং ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তবে এখানে এই গল্পে মৃত্যু ফটিকের জীবনে এক মুক্তির আস্বাদ, শৈশবে ফিরে যাওয়া।

এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটিকের জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার শৈশবের ভালোলাগা, সহজ সরল জীবন, গ্রামের বন্ধুত্ব, প্রকৃতি, মায়ের ভালোবাসা স্নেহ তাদের প্রতি অদম্য টান ফটিক তার শৈশবেই জীবন অভিজ্ঞতা দিয়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ছুটি পেয়ে গ্রামের সহজ সরল পরিবেশ মিশে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। এইখানেই ছুটি গল্পের সার্থকতা।

karmasathi.in@gmail.com

karmasathi.in প্রতিদিন আপনাদের জন্য নিয়ে আসে সরকারি চাকরি, সরকারি যোজনা, স্থানীয় খবর ও প্রশিক্ষণ আপডেট। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সহজ ভাষায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে, যাতে আপনারা সব গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে পান। karmasathi.in-এর সঙ্গে থাকুন, সবসময় থাকুন আপডেট ও এগিয়ে!

Related Articles

Back to top button