ulta rath yatra 2026: রথযাত্রা কবে ছিল? কেন এই দিন এত গুরুত্বপূর্ণ জানলে অবাক হবেন!

আপনি কি জানেন, রথযাত্রার থেকেও অনেক ভক্তদের কাছে আরও বেশি আবেগের দিন হলো “উল্টো রথযাত্রা”? কারণ এই দিনেই ভগবান আবার নিজের ঘরে ফিরে আসেন। অনেকে শুধু রথযাত্রার দিনটাই জানেন, কিন্তু উল্টো রথের আসল গুরুত্বটা অনেকেই জানেন না। যদি আপনিও জানতে চান ২০২6 সালে উল্টো রথযাত্রা কবে ছিল এবং কেন এই দিন এত বিশেষ, তাহলে পুরোটা পড়ুন—কারণ এই গল্পটা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি আর অনুভূতির এক অসাধারণ মিলন।
২০২6 সালে উল্টো রথযাত্রা বা বহুদা যাত্রা পালিত হয়েছিল ২৪ জুলাই, শুক্রবার। এই দিনটি রথযাত্রার ঠিক এক সপ্তাহ পরে আসে, যখন ভগবান জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা গুন্ডিচা মন্দির থেকে আবার নিজেদের মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই ফিরে আসার যাত্রাকেই বলা হয় উল্টো রথ বা বহুদা যাত্রা।
রথযাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথ তাঁর ভাই ও বোনকে নিয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে যান, যেটিকে অনেকেই তাঁর মামার বাড়ি বলে মনে করেন। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর এই উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে আবার জগন্নাথ মন্দির-এ ফিরে আসেন। এই ফিরে আসার মুহূর্তটাই ভক্তদের কাছে সবচেয়ে আবেগের, কারণ তারা বিশ্বাস করেন—ভগবান যেন তাঁদের ছেড়ে কোথাও না যান।
আরোও পড়ুন: Goshala Mayapur: মায়াপুর গোশালা যেখানে গরু শুধু প্রাণী নয়, ভগবানের প্রিয় সেবিকা!
এই উল্টো রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তদের জন্য এক বিশেষ অনুভূতির দিন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন শুধু একবার রথ টানার জন্য। তাদের বিশ্বাস, রথের দড়ি টানলে জীবনের সব পাপ দূর হয় এবং ভগবানের আশীর্বাদ পাওয়া যায়। এই দৃশ্য সত্যিই দেখার মতো—চারদিকে ঢাক, কাঁসর, ভজন আর “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
উল্টো রথযাত্রার দিনটিতে আরও একটি বিশেষ আচার পালিত হয়, যাকে বলা হয় “সোনা বেস” বা সোনার সাজ। এই সময় ভগবান জগন্নাথকে সোনার অলংকার দিয়ে সাজানো হয়, যা দেখতে লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন। এই দৃশ্য ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ বলে মনে করা হয়।
এই উৎসবের আরেকটি দিক হলো এর সামাজিক গুরুত্ব। এই দিন মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম—সব পার্থক্য যেন মুছে যায় এই এক দিনে। ভক্তদের একটাই লক্ষ্য থাকে—ভগবানের দর্শন পাওয়া এবং তাঁর আশীর্বাদ নেওয়া।
ভারতের পুরী শহরে এই উৎসব সবচেয়ে বড় আকারে পালিত হয়। তবে শুধু পুরী নয়, পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়ও এই উল্টো রথযাত্রা সমান উৎসাহে পালিত হয়। বিশেষ করে মায়াপুর এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এই দিন ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
অনেকেই ভাবেন উল্টো রথযাত্রা মানে শুধু একটি রীতি, কিন্তু আসলে এটি জীবনের একটি বড় শিক্ষাও দেয়। এই উৎসব আমাদের শেখায়—যেখানেই যাই না কেন, শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজের ঘরেই ফিরে আসতে হয়। ভগবানও যেন এই উৎসবের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেন।
উল্টো রথযাত্রার দিন অনেক ভক্ত উপবাস করেন, পূজা করেন এবং দান-ধ্যান করেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই দিনে করা প্রতিটি ভালো কাজ অনেক গুণ বেশি ফল দেয়। তাই এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, পুণ্য অর্জনেরও একটি বড় সুযোগ।
শেষে বলা যায়, উল্টো রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তদের হৃদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগের উৎসব। ২৪ জুলাই ২০২৬ এই পবিত্র দিনটি আবারও সেই ভক্তি, আনন্দ আর ভালোবাসার বার্তা নিয়ে এসেছিল। যদি আপনি কখনও এই উৎসব সরাসরি দেখতে পারেন, তাহলে বুঝতে পারবেন—কেন এই দিনটি এত বিশেষ।




