রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের লক্ষ্য কি? এই প্রকল্পে নারীদের জন্য কতটা অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। আবেদন ও অন্যান্য তথ্য জানুন!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের জনসাধারণের জন্য যেমন বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প এনেছেন তেমনি রাজ্যের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার জন্য এবং নারী শক্তিকে উত্থানের জন্য কন্যাশ্রী নামক একটি প্রকল্পের সূচনা করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের স্কুলমুখী করা গিয়েছে। তাদের পড়াশোনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার একটা রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে সেই সাথে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ভূমিকা, লক্ষ্য, উদ্যোগ, অনুদানের পরিমাণ ও আবেদন সংক্রান্ত সমস্ত কিছু তুলে ধরা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে খমতায় আসেন আর তারপরেই ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য এবং সমাজের পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান অধিকার রক্ষা ও সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার এমন ভাবনা নিয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সূচনা করে। তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত একইভাবে কন্যাশ্রী প্রকল্প সমান গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য: এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো তিনটি।
- প্রথমত কন্যা ভ্রূণ হত্যা বা কন্যাকে পড়াশোনা থেকে ছাড়িয়ে বাল্যবিবাহ দিয়ে দেওয়া এ সমস্ত প্রথা কে রোধ করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেন।
- এছাড়া অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটের জন্য কন্যাকে বেশিদূর পর্যন্ত না পরিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেন সেই দিক থেকেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করার কথা ভেবেছেন।
- এছাড়াও নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করা এবং সমাজের পুরুষের পাশাপাশি সমান অবস্থান গড়ে তোলার জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেন।
আরোও পড়ুন: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি! কবে থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারে বর্ধিত টাকা ঢুকবে?
মূলত এখনো পর্যন্ত গ্রামগঞ্জে দেখতে পাওয়া যায় অর্থনৈতিক সংকটের জন্য বা এমনি কোন কারনে মেয়েটির ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। একটি মেয়ের যে সময় পড়াশোনা করে ভবিষ্যতের জন্য চাকরি করার চিন্তাভাবনা করা দরকার বা নিজের পায়ে দাঁড়ানো দরকার সেই সময়টাই দেওয়া হয় না। এই সমস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্যই মেয়েদের শিক্ষার অগ্রগতির জন্যই মুখ্যমন্ত্রী এমন একটি অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
অনুদানের পরিমাণ: কন্যাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য বার্ষিক ১ হাজার বৃত্তি দেওয়া হয় এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে উচ্চশিক্ষার জন্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
১) আবেদনকারীর পরিবারিক বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কম হতে হবে। তবে প্রতিবন্ধী ছাত্রীদের জন্য বার্ষিক আয় কোন নির্ধারিত সীমা নেই।
২) এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে পাত্রীকে ১৮ বছর পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে।
৩) ১৮ বছর পর উচ্চ শিক্ষা করার হলে তাকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্যও রাজ্য সরকার ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ রাজ্যের কোন মেয়ে যাতে অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ না করে দেয় তার জন্য বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। নারী শিক্ষার অগ্রগতি এবং নারীদের সমাজে সঠিক অবস্থান নির্ণয় করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাশ্রী প্রকল্প আঞ্চলিক গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আপনি যদি কন্যাশ্রী প্রকল্পের অনুদান পেতে চান এবং পড়াশোনার জন্য অর্থাৎ ১৮ বছর পর প্রফেশনাল কোর্সে পড়ার জন্য ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় তারা অবশ্যই কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদন করে এ প্রকল্পের সুযোগ নিন।



