স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণের জন্য আবেদন, অথচ ব্যাংক থেকে অনুমোদন করা হচ্ছে পিএম বিদ্যালয় যোজনার দিকে! বিস্তারিত জানুন।
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন অভিনব প্রকল্পের মধ্যে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড একটি অভিনব উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়া হয়। যে সমস্ত পড়ুয়ারা অত্যন্ত মেধাবী অথচ উচ্চ শিক্ষার জন্য আর্থিক পরিস্থিতি নেই পরিবারের তাদের জন্য বিশেষ এই ঋণ ব্যবস্থা করেছেন রাজ্য সরকার। প্রত্যেক বছর এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে থাকে পড়ুয়ারা। কিন্তু জানা যাচ্ছে ঋণের জন্য আবেদন করার পরে ব্যাংকের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষি যোজনার জন্য আবেদন করার কথা বলা হচ্ছে। এই ব্যাপারটি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
রাজ্যের দেওয়া স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য খুব সহজে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। এরই মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী আবেদন করে ঋণ পেয়েছেন। আরো বহু পড়ুয়া তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন সফলের জন্য ঋণের আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর আবেদন গ্রান্টেড হয়েছে এবং ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে। কিন্তু জানা যাচ্ছে, ঋণ অনুমোদন হয়ে যাওয়ার পর পড়ুয়ারা যখন ব্যাংকে গিয়ে ঋণ পাওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ করতে গিয়েছিলেন তখন ব্যাংকের তরফে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তার কারণ পড়ুয়াদের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের বদলে নরেন্দ্র মোদির পিএম বিদ্যালয় প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে। এইরকম অভিযোগ অনেক পড়ুয়াদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে।
এখন এখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি বিজেপি দলের তরফ থেকেই রাজ্যের ব্যাংকগুলোকে বিধানসভা নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে? যেহেতু সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন, তার জন্যই বিপন্ন রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে প্রচারের কাজ শুরু হচ্ছে। তেমনটাই কি বোটের মুখে রসটা একটু ব্যাঙগুলিকে কাজে লাগিয়ে ভোট প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি? এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্টুডেন্টদের উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার এবং তেমনটাই ৩০ শে জুন এই প্রকল্প চালু করা হয়। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার পিএম বিদ্যালক্ষী যোজনা চালু করেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে যে ঋণ দেওয়া হয় পড়ুয়াদের তার সম্পূর্ণ গ্যারেন্টের থাকে রাজ্য সরকার নিজেই। এই ঋণের জন্য প্রদত্ত সুদের পরিমাণও খুবই স্বল্প রাখা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এর জন্য আবেদন করার পর ঋণ অনুমোদিত হয়ে যাওয়ার পরেও ব্যাংকে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ প্রকল্পে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় বলে মনে করছেন রাজ্য সরকার অর্থাৎ তৃণমূল রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের প্রকল্পের আবেদনকারীদের সংখ্যা অনেক যেখানে বিদ্যালক্ষী যোজনার আবেদনকারীর সংখ্যা অনেকটাই কম। তাই যতই জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন কখনোই রাজ্য সরকারের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সমকক্ষ হতে পারবে না কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম বিদ্যালক্ষী যোজনা।
বিভিন্ন পড়ুয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ঋণ অনুমোদিত হয়ে যাওয়ার পর রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঋণ অনুমোদনের পরবর্তী প্রক্রিয়া করতে যাওয়ার পরে ব্যাংকের আধিকারিকের তরফ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যালক্ষ্মী যোজনার আবেদনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই বিষয়টি যখন অনেক পড়ুয়া মিলে একই রকম অভিযোগ জানায় তখনই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংক গুলির আধিকারিক ও ম্যানেজারদের সাথে কথা বলা হয়। ব্যাপারটি নিয়ে আরো স্পষ্ট নজরদারি চালানো হচ্ছে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনে তরফ থেকে।




