বার্ধক্য ভাতা ও বিধবা ভাতা: নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক ধামাকাধার ঘোষণা করে চলেছেন যার ফলস্বরূপ উপকৃত হতে চলেছে আপামর বাংলার জনগণ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারের সময় যে সমস্ত প্রতিশ্রুতিগুলো জনসাধারণকে দিয়েছিলেন সেগুলি এবার পূরণ করার পালা। যথারীতি বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ গ্রহণ করেন এবং তারপরেই একের পর এক মাস্টার্স স্ট্রোক দিয়ে চলেছেন। প্রথমেই যেমন তিনি ঘোষণা করেন বাংলার শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরিতে বসার বয়স পাঁচ বছর বাড়ানো হবে এবং তারপরেই যুবশক্তি ভরসা কার্ড সূচনা করার কথাও তিনি বলেন। অন্যদিকে প্রাক্তন সরকারের সূচনা করা, যে প্রকল্পগুলো ছিল সেগুলোর নাম পরিবর্তন করে তার অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যে। কোন কোন প্রকল্পের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে চলেছে এবং সেগুলোতে আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে কিনা আবেদন করলেও সেটি কবে থেকে শুরু হবে এবং অনুদান কবে থেকে ব্যাংক একাউন্টে ঢুকবেই সকল প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রথমেই বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ গ্রহণের পরে করে জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন সরকারদের দেওয়া কোনরকম জন দরদী প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। তবে তার অনুদানের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। স্বভাবতই এটি জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির একটি ধাপ। প্রাক্তন সরকারের সূচনা করা বার্ধক্য ভাতা যার অনুদানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার টাকা। এইবার জুন মাস থেকে সেই সমস্ত উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে অনুদান ঢুকবে ২০০০ টাকা। অন্যদিকে বিধবা ভাতা যার পরিমাণ ছিল এক হাজার টাকা সেটিও বেড়ে গিয়ে হয়ে যাবে দু হাজার টাকা। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ভাতা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই সমস্ত প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করতে হবে না বলেই জানিয়েছেন সরকার। শুধুমাত্র ডিবিটি লিংক করা থাকলে সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে আগের উপভোক্তাদের 2000 টাকা করে অনুদান দিয়ে দেওয়া হবে। যে সমস্ত আবেদনপত্র এখনো পর্যন্ত গৃহীত হয়নি, তাদের প্রসেসিং শুরু হওয়ার পর পরই তাদের অ্যাকাউন্টেও ২০০০ টাকা করে অনুদান ঢুকবে।
অন্যদিকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার যেটি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অনুরূপ হিসাবে সূচনা করা হচ্ছে। সেখানেও আগের সরকারের দেওয়া অনুদানের পরিমাণ ছিল সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা। এক্ষেত্রে সেটাও বেড়ে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে তিন হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিক্ষেত্রে প্রকল্প গুলোর অনুদানের মাত্রা ডাবল করা হচ্ছে। বলা যায় আপামর জনগণের সুদিন ফিরে আসছে। তবে এখানে একটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে সমস্ত উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের অংশীদার ছিলেন তারা কি আবার নতুন করে আবেদন করবে? সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের নতুন করে কোন আবেদন করতে হবে না। জুন মাস থেকেই সম্ভবত প্রত্যেক প্রকল্পের অনুদান ঢুকে যাবে উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে। তবে যে সমস্ত রাজ্যের মহিলা এখনো পর্যন্ত লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা হননি তারা সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে অফলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। যদিও তৃণমূল সরকারের সময় অনলাইনে লক্ষীর ভান্ডার পোর্টাল চালু হওয়ার পরেও সেটি কার্যকরী করা হয়নি। শুধুমাত্র অফলাইন মাধ্যমেই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত করে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের চিত্রটি ভিন্ন রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে কবে থেকে আবেদন করা যাবে এবং আবেদনের কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বিজেপি সরকারের তরফে। খুব শীঘ্রই আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য চলেছে।
Read more: চিকিৎসার সমস্ত ফাইল একত্রে এইবার! চালু হচ্ছে এক দেশ, এক আভা কার্ড(Ava card), জানুন বিস্তারিত।
সাধারণ জনগণের আশা ভরসা অনেকটাই পূরণ হবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে কারণ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে নতুন নির্বাচিত বিজেপি সরকার। বার্ধক্য ভাতা থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, অন্যদিকে যুবশক্তি ভরসা কার্ড থেকে শুরু করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ফলে আপামর জনগণের আর্থিক সচ্ছলতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে এবং আনুষঙ্গিক খরচ সামলানো অনেকটাই সফল হবে বাংলার জনগণ। প্রত্যেকটি প্রকল্পের অনুদান আশা করা হচ্ছে জুন মাস থেকেই ব্যাংক একাউন্টের দেওয়া শুরু হবে তাই এই কয়দিন অপেক্ষা করতে হবে বাংলার জনগণকে।
আগের থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ অনুদান বাড়ানোর ফলে বাংলার জনগণ অনেকটাই সুবিধা পেতে চলেছে। এই বাড়তি অনুদান অনেকটাই আর্থিক নিশ্চয়তা আনতে সক্ষম হবে।